শ্রীলঙ্কায় বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৪৪, নিখোঁজ ২১
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ১০:২১ রাত
ছবি: সংগৃহিত
টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ১০ জন, আর নিখোঁজ রয়েছেন ২১ জন। বৃহস্পতিবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের (ডিএমসি) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ডিএমসি জানায়, নিহতদের বড় অংশই মধ্যাঞ্চলের চা-বাগান এলাকা বদুল্লার বাসিন্দা। বুধবার গভীর রাতে পাহাড়ি ঢাল ভেঙে কয়েকটি ঘরচাপা পড়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া নুয়ারা এলিয়া জেলায় একইভাবে আরও ৪ জন মাটি চাপা পড়ে মারা যান। বাকি মৃত্যুর ঘটনাগুলো শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন জেলায় ঘটেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র আরও জানায়, ভূমিধস ও বন্যায় ৪২৫টির বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবারকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাব চলছে। এর সঙ্গে দেশের পূর্বাঞ্চলে সৃষ্টি হওয়া একটি নিম্নচাপ তীব্র বৃষ্টিপাতের কারণ হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমসি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি, আর কিছু এলাকায় ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে শ্রীলঙ্কার মতো মালয়েশিয়াতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার বর্ষশেষের স্কুল পরীক্ষা দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছে এবং আইনপ্রণেতাদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। এতে পার্লামেন্টের বাজেট বিতর্কও স্থগিত হয়েছে।
ডিএমসি বলছে, চলতি সপ্তাহে আবহাওয়া-সংক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের জুনের পর সবচেয়ে বেশি। ওই সময় ভারী বর্ষণে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত ডিসেম্বর বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণ হারান ১৭ জন।
শ্রীলঙ্কায় এ শতাব্দীর ভয়াবহতম বন্যা হয়েছিল ২০০৩ সালের জুনে, যখন বন্যা-ভূমিধসে ২৫৪ জন মারা যান।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটিতে বন্যা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে এবং এর তীব্রতা বাড়তে পারে।
বাংলাধারা/এসআর
