মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলেই অভিশংসনের ঝুঁকি, রিপাবলিকানদের সতর্ক করলেন ট্রাম্প
প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৭, ২০২৬, ০৭:৩৮ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয়ের বিকল্প নেই, এমন সতর্ক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে হেরে গেলে ডেমোক্র্যাটরা তাকে অভিশংসনের জন্য কোনো না কোনো অজুহাত খুঁজে নেবে।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যদের এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আপনাদের জিততেই হবে। যদি না জিতেন, তাহলে ওরা ডেমোক্র্যাটরা, আমাকে অভিশংসনের একটা কারণ বের করে ফেলবে।
রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে ট্রাম্পের নীতিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা তৈরি হবে। এমনকি কংগ্রেসে একাধিক তদন্তের মুখেও পড়তে পারেন তিনি। এ কারণেই নির্বাচনের আগেই হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে দলের মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে তৎপরতা বাড়িয়েছেন ট্রাম্প।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় কোন্দল ভুলে রিপাবলিকানদের এক কাতারে আসার আহ্বান জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি এবং সিনেটের ৩৩টি আসন আমাদের ধরে রাখতেই হবে।
তবে আশাবাদও ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, আমরা এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে এমন জয় ছিনিয়ে আনব, যা ইতিহাস গড়বে এবং রেকর্ড ভাঙবে।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে নীরব ট্রাম্প
সম্মেলনে দেশের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্প সরাসরি কোনো আলোচনা করেননি। বরং তিনি বলেন, এসব সমস্যা মূলত ডেমোক্র্যাটদের শাসনামলের সৃষ্টি, যার দায় এখন তার কাঁধে এসে পড়েছে।
৮৪ মিনিটের দীর্ঘ বক্তব্যে ট্রাম্প নানা প্রসঙ্গ টানেন, যার মধ্যে কিছু ছিল বিতর্কিত ও তথ্যগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি দাবি করেন, গত সাত মাসে ওয়াশিংটনে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি, যদিও পুলিশ তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালেই সেখানে ১২৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এমনকি ৩১ ডিসেম্বর রাতেও একজন নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি গলফ খেলার সুযোগ পান না, অথচ সম্প্রতি তাকে গলফ মাঠে দেখা গেছে।
বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় নিশ্চিত, তবে দলের কিছু সদস্য ‘সঠিক পথে নেই’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবারও নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর ইঙ্গিত
প্রসঙ্গত, প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দু’বার অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এবারও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন, যদিও হোয়াইট হাউজ তা অস্বীকার করে আসছে।
বর্তমানে কংগ্রেসে খুব অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে রিপাবলিকানরা। এই সংকীর্ণ ব্যবধান নিয়ে স্বস্তিতে নেই ট্রাম্প কিংবা স্পিকার মাইক জনসন। ফলে বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে নিজের নির্বাহী ক্ষমতা আরও জোরদার করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।
তবে দলের ভেতরেই অসন্তোষ বাড়ছে। সম্প্রতি কলোরাডো ও ফ্লোরিডার অবকাঠামো প্রকল্প বাতিলে ট্রাম্পের দেওয়া ভেটো নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেই বিভাজন দেখা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে সেই ভেটো বাতিলের ভোটাভুটি হলে বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান ট্রাম্পের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাধারা/এসআর
