ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

জাবি ক্যাম্পাসে জমজমাট নির্বাচনী উৎসব: ৩৩ বছর পর জাকসু'র ভোট

মেহেদী হাসান মিঠু

 প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৫, ০৩:৩১ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

দীর্ঘ ৩৩ বছরের অপেক্ষার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। তফসিল ঘোষণার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা গেছে, এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৯১৯ জন। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আবাসিক হল, বিভাগ, ক্যাফেটেরিয়া, বটতলা থেকে শুরু করে চৌরঙ্গী- ক্যাম্পাসের প্রতিটি আড্ডাস্থল এখন নির্বাচনী আলোচনায় সরব। দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীরা নতুন নেতৃত্ব বেছে নেবেন, তাই প্রত্যাশার মাত্রাও অনেক বেশি। শিক্ষার্থীদের আশা, নির্বাচিত প্রতিনিধি শুধু প্রতীকী ভূমিকায় নয়, বরং অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

জাকসুর জন্য দুই দিনে ৮৭ জন এবং হল সংসদের জন্য ২৪১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানান নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম। প্রার্থীদের চাপ ও সংগঠনগুলোর অনুরোধে মনোনয়ন সংগ্রহের সময়সীমা ২১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এই নির্বাচন ঘিরে শাখা ছাত্রদলের ভেতরে বিভক্তি প্রকট হয়েছে। বিতর্কিত নেতাদের কমিটিতে রাখাকে কেন্দ্র করে দলের একাংশ বিক্ষোভ করে এবং “বিদ্রোহী গ্রুপ” আলাদা প্যানেল গঠনের পথে হাঁটছে। শাখা আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শে আলোচনা চলছে এবং ২৫ আগস্ট প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হবে।

প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরাও একক প্যানেলে একত্রিত হতে পারেননি। জানা গেছে, দুটি প্যানেল গঠনের আলোচনা চলছে- একটিতে ছাত্র ইউনিয়নের অদ্রি-অর্ক অংশ, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের ফাইজা গ্রুপ ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী; অন্যটিতে থাকছে ছাত্র ইউনিয়নের জাহিদ-তানজিম অংশ, সাংস্কৃতিক জোটের মেঘ গ্রুপ এবং জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার।

৩৬ বছর পর প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফিরেছে ছাত্রশিবির। এবার তারা পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, যারা একক প্যানেল ঘোষণা করার কথা বলেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আভাস দিয়েছেন ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানকর্মী আবদুর রশিদ জিতু এবং ছাত্র ফ্রন্টের সামিয়া। তাদের প্রার্থিতা নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশন সাত দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে- একজন প্রার্থী একাধিক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না, প্রস্তাবক-সমর্থক নির্দিষ্ট সীমায় থাকতে হবে, প্রার্থীকে নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে এবং সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তার কারণে সব সভা-সমাবেশ, কর্মসূচি, মোটরসাইকেল চলাচল এবং ২৫ জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব ড. এ কে এম রাশিদুল আলম জানিয়েছেন, “ক্যাম্পাস এখন উৎসবমুখর। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত। প্রার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে প্রচার চালাতে পারেন এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার।”

সব মিলিয়ে, ১১ সেপ্টেম্বরের ভোট শুধু ৩৩ বছরের জট খোলার প্রতীক নয়; বরং জাহাঙ্গীরনগরের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন নেতৃত্বের আগমনী সুরও বয়ে আনছে।

বাংলাধারা/এসআর