ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

আবাহানীতে অস্থিরতা:

বাজেট সংকট, নাকি রাজনৈতিক আশ্রয় হারানোর ফল?

আহমেদ শাহেদ:

 প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ১০:৫৬ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

ঢাকার ক্রিকেট অঙ্গনজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আবাহনী ক্রীড়া চক্র। একসময় ছিল শক্তিশালী দল, অথচ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আগে এখন দলটি যেন দিকহারা। অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা দল ছাড়ছেন, আর একসময়কার আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তারকা খেলোয়াড়দের টেনে আনার ক্ষমতাও যেন হারিয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা- “বাজেট সংকট।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, আসলেই কি শুধু টাকার অভাব, নাকি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা হারানোই বড় ধাক্কা?

আবাহনী কখনোই শুধু একটি ক্রীড়া ক্লাব ছিল না- এটি ছিল রাজনীতি ও খেলাধুলার মিলনবিন্দুর প্রতীক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল ১৯৭২ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সরাসরি নজরদারিতে পরিচালিত হয়েছে ক্লাবটি। খেলোয়াড় বদল থেকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত-সব জায়গাতেই রাজনীতির ছাপ স্পষ্ট ছিল। আর্থিক সংকট শব্দটি আবাহনীর সঙ্গে খুব কমই যুক্ত হয়েছে।

কিন্তু গত বছর ছাত্র–নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এর পরপরই নাটকীয়ভাবে বদলে যায় আবাহনীর ভাগ্য। রাজনৈতিক শক্তির ছায়া, যা এত বছর ধরে আর্থিক ও প্রশাসনিক ভরসা জুগিয়েছে, হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায়। ক্লাবের ভেতরে দেখা দেয় বিভাজন, বোর্ডরুম থেকে মাঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে অনিশ্চয়তা। একাধিক প্রভাবশালী পরিচালক পদত্যাগ করেন, আর্থিক অনুদানও বন্ধ হয়ে যায়।

অনেক ক্রিকেটার অভিযোগ করছেন, বকেয়া পরিশোধ ও চুক্তি নবায়নের প্রতিশ্রুতি বারবার দেওয়া হলেও তা পূরণ হচ্ছে না। ফলে সিনিয়র খেলোয়াড়রা প্রতিদ্বন্দ্বী দলে যোগ দিচ্ছেন বা বাজারে সুযোগ খুঁজছেন। অথচ আগে আবাহনীকে ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ধরা হতো- যেখানে বেতন-বোনাস নিয়ে টানাপোড়েন ছিল প্রায় অচেনা বিষয়।

অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো- মোহামেডান, প্রাইম ব্যাংক ও শেখ জামাল ধানমন্ডি- আক্রমণাত্মকভাবে শক্তিশালী স্কোয়াড তৈরি করছে। আবাহনীর “বাজেট সংকট” শুধু দলকেই দুর্বল করছে না, প্রতিপক্ষের কাছেও মানসিক সুবিধা এনে দিচ্ছে।

তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়- এত আকস্মিকভাবে আর্থিক ভাঙন ঘটল কেন? ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, মূল কারণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সহায়তার শূন্যতা। আওয়ামী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঐতিহাসিক আশ্রয় হারানোয় এখন টিকে থাকার লড়াই করছে ক্লাবটি।

চিন্তার বিষয় শুধু চলতি মৌসুম নয়। নতুন বাস্তবতায় আবাহনী কি নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারবে, নাকি ধীরে ধীরে হারাবে সেই ঐতিহাসিক আধিপত্য? ক্রিকেট মাঠের লড়াইয়ের অনেক আগে, রাজনৈতিক ও আর্থিক ভিতেই যেন ভেঙে পড়ছে আবাহনী।


বাংলাধারা/এসআর