ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে, ধীরগতিতে ফিরছে অর্থনীতির গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ১১, ২০২৬, ১১:২৮ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

চাপের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। প্রবৃদ্ধি এখনও মন্থর হলেও মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার আভাস মিলছে। জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিকবিষয়ক বিভাগ প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা ২০২৬’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে এমন চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তুলনামূলক কম প্রবৃদ্ধির পর ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৫ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে উচ্চ সুদের হার, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ এবং সরকারি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় মধ্য মেয়াদে অর্থনীতিতে ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৫ সালে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও বাংলাদেশ এখনও সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আইএমএফের পরামর্শ অনুসরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রেখেছে। বিপরীতে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যে সুদের হার কমানোর পথে হাঁটছে।

জাতিসংঘের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, খাদ্যপণ্যের দাম এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানির মূল্য অস্থিরতা বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসার পথে প্রধান বাধা হয়ে আছে। বৈশ্বিক বাজারে এসব পণ্যের দামের ওঠানামা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরাসরি চাপ তৈরি করছে।

তবে ইতিবাচক দিকও দেখছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাতে স্থিতিশীল উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা ধরে রাখা এবং আইএমএফ-সমর্থিত সংস্কার কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে গতি ফিরে পাচ্ছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় বাংলাদেশ এখনও কিছুটা পিছিয়ে। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে ভারতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ভুটান ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের আশপাশে সীমিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশের মোট ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে এখনই বড় ধরনের শঙ্কার কথা বলছে না জাতিসংঘ। তবে দ্রুত হারে সুদ ব্যয় বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ মাঝারি ঝুঁকির ঋণ পরিস্থিতিতে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের মতো এখানেও সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। যদিও বাংলাদেশ এখনো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় নেই। তবে রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা থাকলে এবং বৈশ্বিক সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে ভবিষ্যতে বাজেট ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতি এখনও নিম্ন প্রবৃদ্ধির মধ্যেই রয়েছে। যদিও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে, তবু ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চ সুদের হার এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য রপ্তানি ও বিনিয়োগ পরিবেশ আগামী দিনে আরও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ।


বাংলাধারা/এসআর