২ বছরের আগে বাড়ানো যাবে না বাড়ি ভাড়া: ডিএনসিসির নির্দেশিকা
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২০, ২০২৬, ০২:১২ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
প্রতি বছরের শুরুতেই ঢাকায় বাড়ি ভাড়া বাড়ানো যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। সরকারি কোনো কার্যকর নীতিমালা না থাকায় ভাড়াটিয়ারা দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িওয়ালাদের ইচ্ছামতো ভাড়া বৃদ্ধির চাপে ভুগছেন। এই বাস্তবতায় ভাড়াটিয়াদের স্বস্তি দিতে ২ বছরের আগে বাড়ি ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গুলশান-২ নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ঢাকার বাড়িভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশিকা’ প্রকাশ করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে জানুয়ারি এলেই বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর একটি প্রচলন তৈরি হয়েছে। যারা এখন ভাড়া বাড়ানোর কথা ভাবছেন, তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই—ভাড়া বাড়ানোর সময় জানুয়ারি নয়, অর্থবছরের সময় জুন-জুলাই। কারণ বাড়ি ভাড়ার ভিত্তিতেই সিটি করপোরেশন ট্যাক্স আদায় করে। সুতরাং যে হারে ট্যাক্স দেওয়া হয়, সেই যুক্তিসঙ্গত হারেই ভাড়া সমন্বয় হওয়া উচিত।”
তিনি আরও জানান, ভাড়াটিয়াদের অধিকার সুরক্ষায় বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর আলোকে এই নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে, যা বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাড়ির মালিককে বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সব মৌলিক সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের দায়িত্বও বাড়িওয়ালার।
নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ড বা ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় ভাড়াটিয়াদের ছাদ ও মূল গেটের চাবি শর্তসাপেক্ষে দিতে হবে। একই সঙ্গে বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও খোলা জায়গায় সবুজায়নের উদ্যোগ নিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
ভাড়াটিয়াদের মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে এবং বাড়িওয়ালাকে প্রতিমাসে লিখিত রশিদ দিতে হবে। ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময়ে বাড়িতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাড়াটিয়ার মতামত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর টানা দুই বছর তা অপরিবর্তিত থাকবে। এই সময়ের আগে কোনো অবস্থাতেই ভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর পর উভয় পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা যাবে এবং তা হবে কেবল জুন-জুলাই সময়ে।
এছাড়া বাড়ি ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে ১ থেকে ৩ মাসের বেশি অগ্রিম নেওয়া যাবে না। লিখিত চুক্তিতে ভাড়া, অগ্রিম, ভাড়া বৃদ্ধির শর্ত এবং বাড়ি ছাড়ার সময়সীমা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
ভাড়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রথমে মৌখিক সতর্কতা, পরে লিখিত নোটিশ দিয়ে দুই মাস সময় দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ দুই মাসের নোটিশে ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
নির্দেশিকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠনের কথা বলা হয়েছে। ভাড়াসংক্রান্ত বিরোধ প্রথমে এই সমিতির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তাতেও সমাধান না হলে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানানো যাবে।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, নির্দেশিকাটি বাস্তবায়নে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের সচেতন করতে জোনভিত্তিক মতবিনিময় ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকার ভাড়াবাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং ভাড়াটিয়াদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাধারা/এসআর
