নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য মানদণ্ড স্থাপন করবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৩, ২০২৬, ০২:৪৩ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং এই নির্বাচন দেশবাসীর জন্য একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করবে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও শ্রম আইনের ব্যাপক সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও পর্যবেক্ষক পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ড. ইউনূস বলেন, “এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। ভবিষ্যতে আরও ভালো নির্বাচন আয়োজনের জন্য এটি একটি মানদণ্ড তৈরি করবে। আসুন, আমরা সবাই আশাবাদী থাকি।” একই সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে সংস্থাটির সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে পক্ষই বিজয়ী হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি স্বাগত জানান এবং বলেন, এসব সংস্কার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্য প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাসের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও শুল্ক কমানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতিকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায় এবং কৃষিপণ্যসহ বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিবিরগুলোতে বসবাসরত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা সম্ভব।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/এসআর
