ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

সরকারের শেষ একনেকে ২৬ প্রকল্প: ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৫, ২০২৬, ০১:৪৭ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) শেষ সভা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অষ্টম একনেক সভা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকালীন ১৯তম সভা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, আজকের বৈঠকে মোট ২৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে, যার সম্মিলিত প্রস্তাবিত ব্যয় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

সূত্র অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের মধ্যে ২৩টি রয়েছে একনেকের পূর্বনির্ধারিত কার্যতালিকায়। পাশাপাশি জরুরি বিবেচনায় আরও তিনটি প্রকল্প সরাসরি সভার টেবিলে উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- ১৫টি সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প, ছয়টি সংশোধিত প্রকল্প এবং পাঁচটি প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া পরিকল্পনা উপদেষ্টার অনুমোদিত আরও ১০টি প্রকল্প সভায় শুধু অবগতির জন্য তোলা হবে।

আজকের একনেক সভায় আলোচ্য প্রকল্পগুলোর বড় অংশই অবকাঠামো ও পানিসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্রিক। এর মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের রয়েছে দুটি করে প্রকল্প।

এ ছাড়া রেলপথ, যুব ও ক্রীড়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি করে প্রকল্প আজকের সভায় উপস্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

  • রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ
  • মুন্সীগঞ্জ জেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন
  • নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্যানিটেশন উদ্যোগ
  • দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নতুন অবকাঠামো নির্মাণ
  • বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের জন্য বিকল্প শিক্ষা কার্যক্রম
  • বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী এক হাজার শয্যার হাসপাতাল
  • আশুগঞ্জ-পলাশ ‘সবুজ প্রকল্প’
  • ‘পরিষ্কার বায়ু প্রকল্প’
  • চট্টগ্রামের পারকি সৈকতে পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণ


মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে চতুর্থবারের মতো একনেকে তোলা হচ্ছে চট্টগ্রামের লালখান বাজার-বিমানবন্দর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। পাশাপাশি মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে- 

  • চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন
  • দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ
  • সিলেট অঞ্চলের দুটি টেক্সটাইল প্রকল্প


সংশোধনের জন্য উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি
  • স্মলহোল্ডার কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদী ড্রেজিং ও রাবার ড্যাম
  • শরীয়তপুরে পদ্মার ডান তীর সংরক্ষণ
  • চট্টগ্রামের পারকি পর্যটন প্রকল্প

এদিকে, সরাসরি টেবিলে উত্থাপিত তিনটি প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী, যেখানে ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটি প্রকল্প স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা উন্নয়ন এবং একটি অপ্রকাশিত প্রকল্প।

একনেকে অবগতির জন্য উপস্থাপনযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, ৯টি সরকারি কলেজ উন্নয়ন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) সম্প্রসারণ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় উন্নয়ন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ, র‍্যাব সদর দপ্তর নির্মাণ, নড়াইল শহরের মহাসড়ক উন্নয়ন এবং সৈয়দপুর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এ ছাড়া দুটি প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখেই সমাপ্ত ঘোষণা করার প্রস্তাব রয়েছে। সেগুলো হলো-
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাশ ও অবলোকন কেন্দ্র’ এবং ‘নভোথিয়েটার, খুলনা স্থাপন’ প্রকল্প।

একই সঙ্গে একটি প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবও এসেছে। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন’ প্রকল্প থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়ে নতুন নাম রাখা হচ্ছে- ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন’।

পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শেষ একনেক’ বলা না হলেও বাস্তবতায় এটিই নির্বাচন-পূর্ব অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ উন্নয়ন সভা। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের অধীনেই পরবর্তী একনেক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে বিশেষ জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে ভোটের আগেও আরেকটি সভা আয়োজনের সুযোগ রয়েছে।


বাংলাধারা/এসআর