ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

দেশে ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে জি-টু-জি চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৭, ২০২৬, ০৮:৫৪ রাত  

ছবি: আইএসপিআর

ড্রোন উৎপাদন, সংযোজন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে সরকার-থেকে-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো আধুনিক আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি) উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনের পথ খুলল।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন ইন্টারন্যাশনাল (সিইটিসি)- এর মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও সিইটিসি যৌথভাবে দেশে একটি অত্যাধুনিক ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন সুবিধা গড়ে তুলবে। এতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্প-দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে ইউএভি উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আইএসপিআর আরও জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড্ডয়নে সক্ষম (মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডিউরেন্স) এবং উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম (ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং) ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। এসব ড্রোন সামরিক ব্যবহারের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চুক্তির ফলে দেশীয় পর্যায়ে ইউএভি উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষ অ্যারোস্পেস জনবল গড়ে ওঠার মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতেও এ উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীসহ বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।


বাংলাধারা/এসআর