ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৮, ২০২৬, ০৪:৩৫ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণরাই ভবিষ্যতে বিশ্ব নেতৃত্ব দেবে। তার মতে, এই আন্দোলন শুধু দেশের রাজনীতিতে নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তায়ও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে, তেমনি ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করবে। জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে।

তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর যে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ গড়ে উঠেছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত একটি শক্তিশালী সরকারের পতনের পথ তৈরি করে দেয়। এতে প্রমাণ হয়- তথ্যপ্রযুক্তি ও জনশক্তির সম্মিলিত শক্তি কতটা গভীর পরিবর্তন আনতে পারে।

ড. ইউনূস বলেন, বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল খাতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
“এই খাত থেকেই পরিবর্তনের সূচনা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি অন্য সব খাতকে প্রভাবিত করে এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেয়,”- বলেন তিনি।

নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে অনেক কিছু হলেও বাস্তবে তার সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি।
“সরকার শুধু একটি সিস্টেম তৈরি করে দেবে। এরপর জনগণ নিজেদের মতো করে সেটি ব্যবহার করবে। এটাই তথ্যপ্রযুক্তির প্রকৃত শক্তি,”- যোগ করেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সংযোগের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় থাকা প্রায় আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টি স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। “যে স্কুলে শিক্ষক নেই, সেখানে ইন্টারনেটই হতে পারে সবচেয়ে বড় শিক্ষক,”- বলেন তিনি।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, একজন কর্মকর্তার পাঁচ বছরের বেশি সরকারি চাকরি করা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় একই জায়গায় থাকলে মানসিকতা একরকম হয়ে যায়, সৃজনশীলতা হারিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর পর নতুন করে শুরু করা প্রয়োজন, কারণ সময় বদলালেও অনেক প্রতিষ্ঠান পুরোনো চিন্তাধারায় আটকে থাকে।

জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশ জালিয়াতিতে সেরা হয়ে গেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রযুক্তিতে এগোতে হলে আগে এই জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমাদের সেই সামর্থ্য আছে- শুধু সঠিক পথে এগোতে হবে।


বাংলাধারা/এসআর