একাত্তরে হিন্দু নির্যাতনকারীরাই নতুন রূপে ফিরে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
প্রকাশিত: জানুয়ারী ৩০, ২০২৬, ০৩:৫৩ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
একাত্তরে যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল, তারাই আজ নতুন রূপ ধারণ করে আবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছিল, তারাই নবরূপে ফিরে এসে আবারও ক্ষমতার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে। তাদের হাতে দেশের সব নাগরিক আদৌ নিরাপদ কি না, এ প্রশ্ন দেশবাসীর কাছে তুলে ধরেন তিনি।
শুক্রবার সকালে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ তার নির্বাচনী এলাকা পেকুয়া সদরের বিশ্বাসপাড়ায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল। সে সময়ের নির্মম ইতিহাস তাদের পূর্বপুরুষেরা প্রত্যক্ষ করেছেন। যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করত না কিংবা যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারাই সেসময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, বিএনপির শাসনামলে এ দেশের সব ধর্মের মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করেছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী সবাইকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বিএনপি কখনো জাতিগত, ধর্মীয় কিংবা বর্ণভিত্তিক বিভাজনে বিশ্বাস করে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, আমরা সবাই মিলেই বাংলাদেশি হিসেবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকতে চাই।
পেকুয়া উপজেলা বিশ্বাসপাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দময় বিশ্বাস তিলকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, বিশ্বাসপাড়া কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের সভাপতি শিমুল বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক রমেশ বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুমন বিশ্বাস, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অংতোয়াইচিং রাখাইন, বারবাকিয়া লোকনাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রিপন কান্তি নাথ, বারবাকিয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি পরিতোষ নাথ, শিলখালী বিষ্ণু মন্দিরের সভাপতি মাস্টার অনিল কান্তি শিলসহ স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
বাংলাধারা/এসআর
