ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

লিটনদের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন নয়: বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের থেকে সরে যাচ্ছে এসজি

স্পোর্টস ডেস্ক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৭, ২০২৬, ১০:১৯ দুপুর  

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস আর ভারতীয় ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসজির ব্যাট ব্যবহার করবেন না। লিটনের সঙ্গে ব্যাট স্পন্সর চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসজি (সানস্পাইরেলস গ্রিনল্যান্ডস)। ফলে তার ব্যাটে আর থাকছে না এসজির স্টিকার, হারাচ্ছেন স্পন্সরশিপ থেকে পাওয়া বাড়তি আয়ও।

লিটনের পাশাপাশি ইয়াসির আলী রাব্বি ও মুমিনুল হকের সঙ্গেও চুক্তি নবায়ন করবে না প্রতিষ্ঠানটি। এই তিন ক্রিকেটারের এজেন্ট নিশ্চিত করেছেন, চুক্তি নবায়নের বিষয়ে এসজি আগেই মৌখিক সম্মতি দিয়েছিল। তবে হঠাৎ করেই প্রতিষ্ঠানটি সিদ্ধান্ত বদলায় এবং চুক্তি নবায়ন না করার পেছনে কোনো কারণও ব্যাখ্যা করেনি।

বাংলাদেশ ও ভারতের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার ছাপ যে ক্রিকেট অঙ্গনেও পড়ছে, এই সিদ্ধান্ত তারই নতুন ইঙ্গিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে বাদ পড়েন মুস্তাফিজুর রহমান। নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে দলে নিলেও শেষ পর্যন্ত খেলতে পারেননি বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক বোলার।

আইপিএলের নিলামে রাখা সাতজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের মধ্যে মুস্তাফিজই একমাত্র দল পেয়েছিলেন। তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। সোমবার আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে ইমেইল করে ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

এই ঘটনার রেশ ধরে দুই দেশের ক্রিকেটে বয়কটের আবহ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ভারতীয় একটি বড় ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারকের স্পন্সর চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

ব্যাট স্পন্সর চুক্তি বাতিলের বিষয়ে লিটন কুমার দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে টেস্ট দলের সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমি শুনেছি লিটনের সঙ্গে এসজি চুক্তি বাতিল করেছে। আমাকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। যদি কোনো সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে জানতে পারব।”

বাংলাদেশে ভারতের ক্রীড়া সামগ্রীর বড় বাজার রয়েছে। ক্রিকেট ও হকির বেশিরভাগ সরঞ্জামই ভারত থেকে আমদানি করা হয়। সামান্য পরিমাণ সামগ্রী আসে পাকিস্তান থেকে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান ব্র্যান্ড সিএ ব্যাটের বাজারও দেশে বেড়েছে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এই ব্র্যান্ডের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

লিটন, মুমিনুলদের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করায় দেশে নতুন করে প্রতিবাদের ঢেউ উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আন্দোলন ভারতীয় পণ্য বয়কট বা টিভি চ্যানেল বন্ধের মতো সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

মুস্তাফিজ ইস্যু থেকে শুরু করে স্পন্সর চুক্তি বাতিল- সব মিলিয়ে দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্ক নিয়ে শঙ্কিত বিসিবির কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরিচালক বলেন, “এগুলো ভালো লক্ষণ নয়। পাকিস্তানের সঙ্গে যেমন ভারত দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে না, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ভাবা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলো যদি চুক্তি বাতিল করে, তাহলে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিতে যাবেন। পাকিস্তানি কোম্পানিগুলো সেই সুযোগ নিতে পারে।”

বর্তমানে বিপিএলে সিলেট দলের অনেক ক্রিকেটার এসজি ব্যাট ব্যবহার করেন। লিটনদের মতো জাতীয় দলের পরিচিত মুখ স্পন্সরশিপ থেকে সরে গেলে ঢাকায় এসজি ব্যাটের বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেই জায়গা দখলে নিতে পারে সিএ বা এমকেএসের মতো ব্র্যান্ড।

ক্রিকেট মাঠের বাইরের এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


বাংলাধারা/এসআর