টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া ও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে শ্রীলঙ্কার অবস্থান
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৯, ২০২৬, ০৭:০৭ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে টুর্নামেন্টের রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় সালমান-বাবরদের অংশগ্রহণ নিয়েও দোলাচল চলছে। আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে দাবি করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং আগামীকাল শুক্রবার কিংবা সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এমন অবস্থায় পাকিস্তান খেলবে কি না, তা অনিশ্চিত হলেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে প্রস্তুতি থেমে নেই। টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক শ্রীলঙ্কা এই ম্যাচকে সামনে রেখে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। পাকিস্তান অংশ নিলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে তাদের বহুল আলোচিত ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে। এই ম্যাচকে সামনে রেখে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে। তিনি বলেন, পুরো টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য, আর ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হবে।
এর আগে ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। উল্টো বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান এই বিরোধের পুরো সময়জুড়ে সহ-আয়োজক হয়েও নীরব অবস্থান বজায় রেখেছিল শ্রীলঙ্কা। তবে এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সেক্রেটারি বান্দুলা দিসানায়েকে।
এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, আঞ্চলিক কোনো বিরোধে জড়িয়ে পড়তে চায় না শ্রীলঙ্কা। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে যে মতবিরোধ চলছে, সে বিষয়ে কলম্বো নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকবে। তিনি বলেন, এই তিন দেশই শ্রীলঙ্কার বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র। তবে ভবিষ্যতে কোনো দেশ অনুরোধ জানালে শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে প্রস্তুত থাকবে।
এদিকে, শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সব দলের নিরাপত্তায় বিশেষ এলিট ইউনিট মোতায়েন করা হবে। সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসব কমান্ডো ইউনিটই দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ইস্যুতে টুর্নামেন্টের অনিশ্চয়তা থাকলেও, বিশ্বকাপ নির্বিঘ্নে আয়োজন এবং বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে শ্রীলঙ্কা যে কোনো ঝুঁকি এড়াতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে, সে বার্তাই স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাধারা/এসআর
