ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ

বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের আহ্বান আসিফ নজরুলের

স্পোর্টস ডেস্ক

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ০৪, ২০২৬, ০১:২৬ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এই সিদ্ধান্তকে তিনি ‘উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার’ বলে আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) নির্দেশ দিয়েছেন, পুরো বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করতে এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি তুলতে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল এই অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে তিনি বিসিবিকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তারা আইসিসির কাছে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, যেখানে বাংলাদেশের একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার বৈধ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে গোটা ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে নিজেদের নিরাপদ মনে করবে- এমন প্রত্যাশা অবাস্তব।

নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের জন্য আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাতে বিসিবিকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান।

মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি লেখেন, আমি তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছি, বাংলাদেশে যেন আইপিএল খেলার সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভারতের এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের প্রতি চরম অবমাননাকর উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, আমরা কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা মেনে নেব না। গোলামির দিন শেষ।

এই বক্তব্যের পর দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি শুধু একজন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।


বাংলাধারা/এসআর