রাজশাহীতে দ্বিতীয়, নাকি চট্টগ্রামে প্রথম? বিপিএল ফাইনালে মুখোমুখি দুই শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৩, ২০২৬, ০২:৩১ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট মানেই প্রায় প্রতি মৌসুমেই নাম ও মালিকানা বদলের গল্প। সেই ধারাবাহিকতায় একই অঞ্চল থেকে ভিন্ন ভিন্ন নামে মাঠে নামা দলগুলোর ইতিহাসও বেশ জটিল। তবে শিরোপার হিসেবে হিসাবটা বেশ পরিষ্কার- রাজশাহীর ঘরে একটি ট্রফি আছে, চট্টগ্রামের ঘর এখনও শূন্য।
আজ শুক্রবার দ্বাদশ বিপিএলের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচ। প্রশ্ন একটাই- রাজশাহীর ঘরে কি যোগ হবে দ্বিতীয় শিরোপা, নাকি চট্টগ্রাম প্রথমবারের মতো বিপিএল ট্রফির স্বাদ পাবে?
চলতি আসরে দুই দল তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। লিগ পর্বে দুই দেখায় রাজশাহী ও চট্টগ্রাম একটি করে ম্যাচ জিতেছে। টেবিলের শীর্ষে থেকে প্লে-অফে ওঠে নাজমুল হোসেন শান্তর রাজশাহী ও শেখ মেহেদীর চট্টগ্রাম দ্বিতীয় স্থান নিয়ে। ফলে প্রথম কোয়ালিফায়ারেই আবার দেখা হয় তাদের। সেখানে রাজশাহীকে হারিয়ে সরাসরি ফাইনালে উঠে যায় চট্টগ্রাম।
অন্যদিকে শান্তর দল দ্বিতীয় সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোয়ালিফায়ার-২-এ সিলেট টাইটান্সকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
ফাইনালের আগে চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী বলেন, ফাইনালে উঠেছি যখন, শিরোপার স্বপ্ন তো দেখতেই হবে। তবে যে দল সেদিন ভালো ক্রিকেট খেলবে, সব বিভাগে পারফর্ম করবে, তারাই জিতবে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ভেতরেই শিরোপা জয়ের ক্ষুধা আছে। হোপ ফর দ্য বেস্ট।
প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতেও ভোলেননি এই অফস্পিনার, আমার মনে হয় রাজশাহী বিপিএলের ওয়ান অব দ্য বেস্ট দল। খুব ব্যালান্সড স্কোয়াড। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তারা দারুণ ক্রিকেট খেলেছে।
বড় নামের ঝলক না থাকলেও তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে রাজশাহী পুরো আসরেই নজর কেড়েছে। একাদশ নির্বাচন নিয়ে ‘মধুর সমস্যা’র কথা স্বীকার করে প্রধান কোচ হান্নান সরকার বলেন, ‘প্রতিটা প্লেয়ারই টিমম্যান হিসেবে চিন্তা করছে। কেউ ম্যাচসেরা হয়েও পরের ম্যাচে খেলেনি, তবু কারও মধ্যে অসন্তোষ নেই। সবাই জানে তার রোল কী। এখানে সিদ্ধান্ত একার না- অধিনায়ক, কোচিং স্টাফ সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয়। সাফল্য হলে যেমন একার কৃতিত্ব নয়, ব্যর্থ হলেও একার দায় নয়।’
বিপিএল শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে মালিকানা সংকটে পড়ে চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজি। শেষ পর্যন্ত বিসিবির তত্ত্বাবধানে কোচিং স্টাফ ও কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসে। সেখান থেকেই শুরু হয় চট্টগ্রামের দারুণ উত্থান।
অন্যদিকে, নিলামের পর থেকেই রাজশাহীকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছিলেন ক্রিকেটবোদ্ধারা। হান্নান সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে দলটি সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটিয়েছে মাঠে।
লিগপর্ব থেকে প্লে-অফ- প্রতিটি ধাপে রাজশাহী-চট্টগ্রামের দ্বৈরথ ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। ফাইনালেও তাই দুই সেরা দলের কাছ থেকে আরেকটি স্মরণীয় লড়াই প্রত্যাশা করছেন ক্রিকেটভক্তরা।
বাংলাধারা/এসআর
