বিপিএল শেষ, বিশ্বকাপ নেই-লিটনদের ভরসা এখন বিসিএল
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৪, ২০২৬, ১২:৫৯ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
বিপিএল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লিটন কুমার দাসদের ব্যাগ গোছানোর কথা ছিল। পরিবারের সঙ্গে অল্প সময় কাটিয়ে ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সূচিও ছিল সামনে। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ সরকার ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হঠাৎ করেই বদলে গেছে সেই পরিকল্পনা। ফলে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আর ব্যাগ গোছানোর তাড়া নেই, নেই পরিবার থেকে ছুটি নেওয়ার প্রয়োজনও। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সামনে এখন অফুরান অবসর, আর টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখতে হবে দর্শক হিসেবেই- টেলিভিশনের পর্দায়, পরিবারের সঙ্গে বসে।
তবে ক্রিকেটারদের পুরোপুরি বিশ্রামে রাখতে চাইছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বরং তাদের ম্যাচের মধ্যেই রাখতে বিকল্প পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বোর্ড। প্রধান কোচ ফিল সিমন্স এবং সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বিভিন্ন লিগে খেলার পরামর্শ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে বয়সসীমা শিথিল করার কথাও ভাবা হচ্ছে, যাতে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা সেখানে অংশ নিতে পারেন। বাস্তবতা হলো, এই মুহূর্তে বিসিবির হাতে কার্যকর বিকল্পও খুব বেশি নেই।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। পাকিস্তান সফরে এসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করতেই হবে টাইগারদের। নির্ধারিত সময়, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৩০ মার্চের মধ্যে সেরা আট দলের মধ্যে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই এ বছর অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে সিরিজগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই সেই মিশন শুরু করতে চান মেহেদী হাসান মিরাজরা, আর দেশের মাটিতে সিরিজটি জয়ের পরিকল্পনাই রয়েছে বোর্ডের। ক্রিকেটারদের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি ধরে রাখতে তাই খেলার ভেতরেই রাখতে চায় বিসিবি।
এ বিষয়ে বিসিবির হেড অব প্রোগ্রাম মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানান, জাতীয় নির্বাচনের কারণে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোনো প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব নয়। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াবে ক্রিকেট। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প হিসেবে বিসিএলকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টটি মূলত অনূর্ধ্ব–২৩ ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল, তবে প্রয়োজনে বয়সের সীমা তুলে নেওয়া হবে, যাতে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খেলতে পারেন।
বর্তমানে বিসিবির সঙ্গে বিরোধের কারণে ৪৫টি ক্লাব লিগ বয়কট করেছে, যার মধ্যে আটটি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব। ফলে পূর্ণাঙ্গ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় বিসিএলই হয়ে উঠছে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত খেলার মঞ্চ। সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও বিসিএলকে ফোকাসে রাখছেন।
জাতীয় দল সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুধু অনুশীলনের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের ফোকাস ধরে রাখা কঠিন। মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ানডে সিরিজ থাকায় বিসিএলে খেলার বিকল্প নেই। ম্যাচের ভেতরে থাকলেই ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রস্তুত রাখতে পারবেন।
বিসিবি টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার আবু ইমাম মো. কায়সার জানান, আগামী ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বোর্ড যেভাবে নির্দেশনা দেবে, সেভাবেই টুর্নামেন্টের কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে ১২, ১৪ ও ১৬ মার্চ। বিসিএল শেষ করেই তানজিদ হাসান তামিমদের সেই সিরিজে মাঠে নামার সুযোগ থাকবে। এরপর এপ্রিল–মে মাসে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজও রয়েছে। সেই হোম সিরিজের আগে বিসিএলের চার দিনের ক্রিকেটে অংশ নেবেন মুমিনুল হকেরা। বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা চার দিনের লিগের প্রথম দুই রাউন্ড খেলবেন।
বাংলাধারা/এসআর
