ঢাকা, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

অনন্তের পথে ধর্মেন্দ্র: কিংবদন্তিকে বিদায় জানালো মুম্বাই

বিনোদন প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৫:৪৯ বিকাল  

ফাইল ছবি

শেষ পর্যন্ত সত্যিই শেষ হলো এক যুগের অবসান। নানা গুজব ও ভুয়া খবরে বিপর্যস্ত বলিউডভক্তদের আশঙ্কা সোমবার সকালে বাস্তব রূপ নিল- মুম্বাইয়ের জুহুর নিজ বাসায় ৮৯ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলেন ভারতীয় সিনেমার ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র। মাত্র কয়েকদিন পরই ৯০ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল। পরিবারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, ফিল্মফেয়ারসহ ভারতের শীর্ষ মিডিয়াগুলো তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

জুহুর পবন হংস শ্মশানে চলছে এই সুপারস্টারের শেষকৃত্য। সেখানে একে একে এসে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বলিউডের প্রায় সব তারকা- অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার, সালমান খান, আমির খান, অনিল কাপুর, সঞ্জয় দত্তসহ আরও অনেকে। স্বজনদের মধ্যে হেমা মালিনী, এষা দেওলসহ পুরো দেওল পরিবার শোকাতুর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, করণ জোহর, কারিনা কাপুর, অনন্যা পান্ডে-সামাজিক মাধ্যমে সকলেই জানিয়েছেন গভীর শোক।

গত কয়েকদিন ধরেই ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর গুজব গরম ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। আজ তক, ইন্ডিয়া টুডে, ইকোনমিক টাইমসের মতো শীর্ষ গণমাধ্যমও ভুলবশত গুজবটি ছড়িয়ে ফেলে। রাজনাথ সিং, জাভেদ আখতার, কে কে মেনন, চিরঞ্জীবীর মতো বরেণ্য ব্যক্তিরাও শোকবার্তা লিখে ফেলেন। পরে এষা দেওল ও হেমা মালিনী জানান, খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এমন গুজব ছড়ানো অত্যন্ত দায়িত্বহীন। কিন্তু নিয়তির নির্মমতায় কয়েকদিনের মধ্যেই সত্যিই খারাপ হলো অভিনেতার শারীরিক অবস্থা- রাতে শ্বাসকষ্ট বাড়লে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর ফেরানো যায়নি।

১৯৩৫ সালে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া ধর্মসিং দেওল- পরে যিনি ‘ধর্মেন্দ্র’ নামে পরিচিত হন- ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন সিনেমায় কাজ করার। ১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়ে মুম্বাইয়ে পা রাখেন। খুব দ্রুতই ‘ফুল অউর পাথর’ তাঁকে সুপারস্টার বানিয়ে দেয়। এরপর ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘ধর্মবীর’, ‘দোস্ত’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’- প্রতিটি চলচ্চিত্রে তিনি নিজের নতুন রূপ দেখিয়েছেন দর্শকদের।

হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর প্রেম ও বিয়ে ছিল এক যুগের আলোচিত বিষয়। তাঁদের একসঙ্গে প্রায় ৩০টিরও বেশি চলচ্চিত্র ভারতীয় সিনেমায় দাগ রেখে গেছে। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সংসারের সানি ও ববি দেওলও বাবার পথ ধরে বলিউডে প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজেদের।

ছয় দশকেরও বেশি সময়জুড়ে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা এই অভিনেতা হয়তো বলিউডে আর আসবেন না, কিন্তু পর্দায় রেখে যাওয়া তাঁর হাসি, শক্তিমত্তা, সংলাপ- সবই রয়ে যাবে যুগ-যুগান্তর। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে ‘হি-ম্যান’ নামে খ্যাত ধর্মেন্দ্র আজ অনন্তের পথে পা বাড়ালেন, রেখে গেলেন এক অমলিন উত্তরাধিকার।


বাংলাধারা/এসআর