ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামল: সেরা সিনেমা ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ ও ‘কুরাক’
প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৮, ২০২৬, ০৯:৫৮ রাত
ছবি: সংগৃহিত
নান্দনিক চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী আর মননশীল দর্শকের মিলনমেলার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৪তম আসর। এবারের উৎসবে বাংলাদেশ প্যানোরামা (পূর্ণদৈর্ঘ্য) বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে আকাশ হক পরিচালিত বাংলাদেশি সিনেমা ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। এশিয়ান কম্পিটিশন বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে কিরগিজস্তানের ‘কুরাক’, নির্মাতা এরকে ঝুমাকমাতোভা ও এমিল আতাগেলদিয়েভ।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়।
সমাপনী আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের কালচারাল কাউন্সিলর লি শিয়াও পেং, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ মার্ক সেরে শার্লেট এবং অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শঁব্রো। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি জুরি সদস্য, চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য জালাল আহমেদ।
এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, রেট্রোস্পেকটিভ, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, বাংলাদেশ প্যানোরামা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্ম সেশন, ওমেন ফিল্মমেকার, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্ম এবং ওপেন টি বায়োস্কোপ, এই দশটি বিভাগে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত ও পুরস্কৃত করা হয়।
সেরা চিত্রনাট্যকার নির্বাচিত হয়েছেন দাস্তান মাদালিয়েভ ও আইজাদা বেকবালায়েভা, কিরগিজস্তানের চলচ্চিত্র ‘ওটি (বার্নিং)’-এর জন্য, ছবিটির পরিচালক রাদিক এশিমভ। সেরা চিত্রগ্রহণ পুরস্কার পেয়েছেন জোলান্টা ডাইলেভস্কা, কাজাখস্তানের চলচ্চিত্র ‘আবেল’-এ তাঁর কাজের জন্য; ছবিটি পরিচালনা করেছেন এলজাত এসকেন্দির। একই ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হয়েছেন ইয়্যারলান তুলেউতাই।
সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন ফারিবা নাদেরি, ইরানের ইব্রাহিম ইরাজজাদ পরিচালিত ‘শোহার-ই-সেতারেহ (দ্য হাজব্যান্ড)’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য।
দর্শক ভোটে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে চীনা নির্মাতা সিন ঝু পরিচালিত ‘শি জিয়ে রি চু এসএইচআই’ (ইংরেজি নাম All Quiet at Sunrise)। একই বিভাগে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত শেখ আল মামুন পরিচালিত ‘ড্রেইন্ড বাই ড্রিমস’ দর্শক পুরস্কার অর্জন করে।
শিশু চলচ্চিত্র বিভাগে বাদল রহমান স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছে চীনা নির্মাতা চেন কুনহৌ পরিচালিত ‘চিংতং অ্যান্ড কুইহুয়া’। ওয়াইড অ্যাঙ্গেল বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে এস্তোনিয়া, জার্মানি ও লাটভিয়ার যৌথ প্রযোজনার ‘এমালোভি (লায়োনেস)’, নির্মাতা লিনা ট্রিশকিনা ভানহাতালো। নারী নির্মাতা বিভাগে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে ফিলিপাইনের এডিথা কাদুয়ায়ার ‘সা লিকোদ এনগ সাপা’।
সেরা প্রামাণ্যচিত্রের সম্মাননা পেয়েছে জার্মানি, পর্তুগাল ও রোমানিয়ার যৌথ প্রযোজনার ‘লিটল সিরিয়া’, নির্মাতা মাদালিনা রোস্কা ও রিম কার্সলি।
বাংলাদেশ প্যানোরামা ট্যালেন্ট বিভাগে দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে আবির ফেরদৌস মুখার পরিচালিত ‘ইশপিতে’, প্রথম রানারআপ নির্বাচিত হয়েছে উম্মিদ আশরাফ পরিচালিত ‘ধেত!’। ফিপ্রেসকি বাংলাদেশ পুরস্কার পেয়েছে তানহা তাবাসসুম পরিচালিত ‘হোয়াট ইফ’।
সমাপনী অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী আহমেদ হাসান সানি।
‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’, এই স্লোগান নিয়ে ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া উৎসবটি নানা আয়োজন ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে সফলভাবে শেষ হলো।
বাংলাধারা/এসআর
