ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

নায়করাজ রাজ্জাকের প্রয়াণের আট বছর আজ

বিনোদন ডেস্ক:

 প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৫, ০১:৩৩ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

নায়করাজ রাজ্জাকের প্রয়াণের আট বছর আজ। জীবনের ৭৫ বছরের মধ্যে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় তিনি উৎসর্গ করেছিলেন সিনেমাকে। শুধু পর্দার নায়ক হিসেবেই নয়, পুরো চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক হিসেবে তিনি ছিলেন অনন্য।

২০১৭ সালের এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। তারপর থেকে কেটে গেছে আট বছর। রাজ্জাকবিহীন ঢালিউড আজও তার শূন্যতা অনুভব করে। তবু তিনি রয়ে গেছেন দীর্ঘ এক ছায়ার মতো, মানুষের স্মৃতি ও হৃদয়ে চিরকালীন নায়ক হয়ে।

নায়করাজ রাজ্জাকের জন্ম ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি, কলকাতার নাকতলায়। অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে একসময় বম্বে গেলেও সেখানে সাফল্য পাননি। পরে কলকাতায় ফিরে মাত্র বিশ বছর বয়সে বিয়ে করেন। দাঙ্গাবিক্ষুব্ধ কলকাতা থেকে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।

১৯৬৪ সালে ঢাকায় সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় তার। দুই বছর পর, ১৯৬৬ সালে ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাজ্জাক। বাণিজ্যিক কিংবা গল্পনির্ভর—সব ধরনের চলচ্চিত্রেই তিনি সমান সাফল্যের ছাপ রেখেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘বেহুলা’, ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘এতটুকু আশা’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘অবুঝ মন’, ‘রংবাজ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘ছুটির ঘণ্টা’ ও ‘বড় ভালো লোক ছিল’। শুধু অভিনয়েই নয়, নির্মাণেও দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি; পরিচালনা করেছেন ১৬টি চলচ্চিত্র।

অর্জনের খাতায় যুক্ত রয়েছে বহু স্বীকৃতি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালে অর্জন করেছেন দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পদক। পেয়েছেন আজীবন সম্মাননাও। তবে পুরস্কারের বাইরেও সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসাই ছিল তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আজ তার প্রয়াণ দিবসে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থাকলেও পরিবারিকভাবে স্মরণ করা হচ্ছে তাকে। আট বছর কেটে গেলেও ঢালিউডে তার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হয়। তবু নায়করাজ রাজ্জাক রয়ে গেছেন বাংলার মানুষের হৃদয়ে, অমর নায়ক হয়ে।

বাংলাধারা/এসআর